সাতটি নিয়ম নিয়মিত অনুসরণ করে আপনি পেতে পারেন ঝলমলে চুল - আপনার সেবা

শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

সাতটি নিয়ম নিয়মিত অনুসরণ করে আপনি পেতে পারেন ঝলমলে চুল

সুন্দর, ঝলমলে চুল পেতে আমরা কত কিছুই না করি। তবে এত যত্নের মাঝেও আমরা নানা ভুল করে থাকি যা চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুন্দর চুল পেতে হলে আপনাকে কিছু অভ্যাস অবশ্যই বদলাতে হবে। নিয়ম মেনে সারাবছর চুলের খেয়াল রাখলে খুব বেশি সময়ও দিতে হবে না, চুল সুস্থও থাকবে।


মাত্র সাতটি নিয়ম নিয়মিত অনুসরণ করে আপনি পেতে পারেন ঝলমলে চুল।

দেখে নিন নিয়মগুলো:

১. নিয়মিত চুল কেটে ফেলুন : চুলের ডগা নিয়মিত ট্রিম করলে শেপ সুন্দর থাকে, ডগা ফাটা বা ভঙ্গুরতার মতো সমস্যাও শুরু হতে পারে না। আপনার চুল পাতলা হলেও নিয়মিত ট্রিম করে নিন, তাতে চুল তুলনামূলক ঘন দেখাবে। তিন মাস অন্তর একবার ট্রিম করে নিলে চুল সুস্থ আর সুন্দর থাকবে।

২. ডিপ কন্ডিশনিং করুন : চুলের স্বাস্থ্য লুকিয়ে থাকে চুলের গোড়ায়, হেয়ার ফলিকলে। মাসে অন্তত একবার তাই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চুল ডিপ কন্ডিশনিং করা দরকার। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল বা সরষের তেল চুলের পক্ষে খুব ভালো কন্ডিশনার। বড়ো চামচের দু’ তিন চামচ তেল গরম করে তারপর হালকা ঠান্ডা করে নিন। ঈষদুষ্ণ থাকতে থাকতেই তেলটা চুলের গোড়ায় এবং গোটা চুলে ভালো করে মেখে নিন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে সারা রাত রেখে দিন। পরের দিন শ্যাম্পু করে নেবেন।

৩. প্রি-কন্ডিশনিং করুন : শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনিংয়ের কথা তো সকলেই জানেন। কিন্তু এই মুহূর্তে কন্ডিশনিংকে সরিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে প্রি-কন্ডিশনিং। অর্থাৎ শ্যাম্পু করার আগেই কন্ডিশনার লাগানোর পদ্ধতি। যাঁদের চুল কোঁকড়া আর রুক্ষ, তাঁরা প্রি-কন্ডিশনিং করলে দারুণ ভালো ফল পাবেন। বেশ খানিকটা কন্ডিশনার হাতে নিয়ে সারা চুলে ক্রিমের মতো মেখে নিন। পাঁচ-দশ মিনিট রাখুন, যাতে চুল কন্ডিশনারের আর্দ্রতা আর পুষ্টি শুষে নিতে পারে। তারপর শ্যাম্পু করুন।

৪. সঠিকভাবে চুল আঁচড়ান : জবজবে ভেজা চুল আঁচড়াতে যাবেন না, চুল ভেঙে যেতে বাধ্য। যতটা সম্ভব চুল থেকে জল ঝরিয়ে নিয়ে তারপর মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে জট ছাড়িয়ে নিন। নিচের দিক থেকে আঁচড়াতে শুরু করুন, ধীরে ধীরে উপরদিকে উঠুন।

৫. অতিরিক্ত শ্যাম্পু করবেন না : চুল পরিষ্কার রাখা খুব দরকার কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু করার অভ্যেস থাকলে চুল খুব তাড়াতাড়ি রুক্ষ হয়ে যাবে। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুলের উপরে স্বাভাবিক তেলের আস্তরণ নষ্ট হয়ে যায়। সপ্তাহে দু’ তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না। বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল ভালো থাকবে।

৬. ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক লাগাতে পারেন : চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দিতে কাজে লাগান রান্নাঘরের নানা উপাদান। নারকেল তেল, কলা, মেয়োনিজ়, ডিম, অলিভ অয়েল, অ্যালো ভেরা, মধু, টক দই দিয়ে বানিয়ে নিন রকমারি হেয়ার মাস্ক। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেলে চুল স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৭. শোওয়ার সময় চুল বেঁধে রাখুন : চুল খোলা অবস্থায় শুলে বালিশের সঙ্গে সমানে ঘষা লেগে চুল উঠে যেতে পারে৷ এ ছাড়া চুলে জট পড়ে রুক্ষ ও অমসৃণও হয়ে যেতে পারে৷ তাই ঘুমোতে যাওয়ার আগে আলগা বিনুনিতে চুল বেঁধে রাখুন৷
টিপস:
তাজা মেদেহি পাতা বেটে এর মধ্যে ২/৩ টেবিল চামচ চায়ের লিকার দিয়ে রাখুন সারা রাত। পরের দিন ১টি ডিম, ৩ চা চামচ টকদই, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল খুব ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন ২ ঘণ্টা। এরপর হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ বার ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হবে একেবারে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন


আপনিও লেখক হতে পারেন । আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনা, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, ক্যাম্পাসের খবর, তথ্যপ্রযুক্তি, বিনোদন, শিল্প-সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে লেখা পাঠান: apanarseba@gmail.com ই-মেইলে।